Saturday, January 20, 2007

ড. ইউনুস

সামহয়্যার ইন ব্লগে একদিন ইউনুসকে নিয়ে একটি সুন্দর পোষ্টের খোজ পয়েছিলাম, মাশা নামক নিক নিয়ে লেখকের বিজ্ঞতা আমাকে দারুন ভাবে আভিভুত করে। নিচে পোষ্টির কপি দিলাম।

. ইউনুস, জেমসবন্ড অথবা কোকাকোলার বদলে কাপড় খোলা

হলিউডে জেমসবন্ড নামে একটা দারুণ জনপ্রিয় মুভি সিরিজ আছে। জনপ্রিয়তার কারণে যার বহু সিক্যুয়েল হয়েছে। এ ছবিতে প্রায় সময় দেখা যায়, হলিউড[ অথবা আমেরিকার] আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে শত্র“ বাহিনীর বিপরীতে জীবনবাজি রেখে বিশাল দুঃসাধ্য সব মিশন ইম্পসিবলে অংশ নেয়। এর পর নায়কের বিভিন্ন ক্যারিকেচার আর সাথে যতটুকু মশলা আমরা খাই তার চাইতে বেশী মশলা দেয়া হয়। প্রতিমুহুর্তে জেমসকে নিয়ন্ত্রণ করছে একটা ইন্টেলিজেন্ট দল। তারাও হলিউডি আদর্শে উদ্বুদ্ধ। জেমস ছাড়াও প্রায় আমেরিকান মুভিতে এ ধরণের অতিনায়কদের দেখা মেলে। আমেরিকার দানবীয় পতাকা হাতে তাদের সবার একটাই স্লোগান’ সবার উপরে আমেরিকা সত্য তাহার উপরে নাই। আর এই সব জেমস শত্র“পরে ডেস্ট্রয়ার, মিসাইল, নৌবহর ধ্বংশ করে শত্র“কে নিরস্ত্র করে। শুধু নিরস্ত্র করেই ান্ত হয়না তাদের কে একদম সাফ করে ছাড়ে। হয়তো এটাই তাদের অস্ত্র ব্যবসার ত্রে হয়ে যায়। অনুরুপ ভাবে বাস্তবেও আমেরিকা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জেমসবন্ড তৈরী করে তাদের আগ্রাসনের পথ সুগম করে। তৈরী করে অস্ত্র বিক্রির ত্রে। আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাদ্দাম হোসেনকে খুজে বার করে এফ বি আই জেমসবন্ড হিসাবে তৈরী করে। আর ইরাকে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি করে। দশ বছর ধরে ইরাক ইরান যুদ্ধ লাগিয়ে রাখে। অনুরুপ ভাবে আমেরিকার আরেকজন জেমসবন্ড হচ্ছে ওসামা বিন লাদেন। প্রাক্তন সোভিয়েতের বিরুদ্ধে তাকে এবং তার সৃষ্ট তালেবানদেরকে মিশনে পাঠায় আমেরিকা। ঠিক এরকম ভাবে লাতিন আমেরিকায়, নিকারাগুয়া, চিলি, কলম্বিয়া একটার পর একটা জেমসবন্ড তৈরী করে আমেরিকা। স¤প্রতি বাংলাদেশের ডঃইউনুস নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, শান্তিতে। আমরা জানতাম তিনি অর্থনীতিবিদ। যদিও অর্থনীতিতেও নোবেল রয়েছে। আর কে না জানে শান্তির সাথে যুদ্ধেরই সম্পর্ক বেশী। বহুদিন ধরে আমেরিকার মিয়াবিবিদের ঘুম নাই এই দেশটি নিয়া। এই দেশের গিনিপিগ মানুষ গুলো মাঝে মাঝে ভাষানিয়া বিদ্রোহ করে। মাঝে মাঝে স্বাধীনতার কথা কয়। আর একাত্তরে ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েও এদের দমানো গেলনা। শেষ পর্যন্ত হেনরী কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ঘোষনা করলেন তলাবিহীন ঝুড়ির সাথে। তার মানে তিনি আমেরিকান মাফিয়াদের সতর্ক করে দিলেন তারা যেন এ যুদ্ধাহত দেশে বিনিয়োগ না করে। মাঝখানে ডঃ ইউনুসকে খুজে পায় আমেরিকা। তিনি প্রভুদের নেকনজরে আসেন দ্রুত। তিনি বুদ্ধিমান এবং শোষনকামি প্রোগ্রামার। তারা লুফে নিল তাকে। অতিদ্রুত প্রোগ্রাম তৈরী হয়ে যায়। হিলারির হাত বেয়ে আমেরিকান ডলার নেমে আসে বাংলার মাটিতে। মাঝখানে বাবুবিবি নিজেদের বিনিয়োগ ত্রে দেখতে এলেন। স্পেনের রাণী সুফিয়ারে পাঠালেন। ভালই প্রচার হলো। আর মাইক্রো ক্রেডিট ব্যবসা তারা ছড়িয়ে দিলেন পৃথিবীর আরো বহু নিঃশেষিত দেশে। গরিবের প্রতিবাদের ভাষা নাই। তাদের ভিটে মাটি গরু চাগল অন্তত পাওয়া যায়। যদিও এদেশে কিছু নাই তবুও গ্যাস আছে, গার্মেন্টস আছে। সস্তা শ্রমিক আছে। আর আমেরিকা বহু বছর যাবত যে চট্রগ্রাম বন্দরটি চেয়ে আসছে। হিলারী তার ’ লিভিং হিস্ট্রিতে’ ডঃ ইউনুসের জন্য এক দেড় পাতা খরচ করলেন। এবং তার জবান মতে তিনি মতা থাকা কালিনই নোবেল কমিঠিকে অনুরুধ জানিয়েছেন ডঃ ইউনুসকে নোবেল প্রাইজ দেয়ার জন্য। সম্ভবত এতদিন নোবেল কমিঠি ভেবে পায়নাই আসলে ডঃ ইউনুসকে কিসে নোবেল দেয়া যায়। আর আজ ডঃ ইউনূস নোবেল পেলেন। তার আগে মাইক্রো ক্রেডিটে জর্জরিত গোটা চল্লিশেক দেশ। চড়া সুদে আমরা ধনী হচ্ছি। গ্রামীণ ব্যংকের সুদে দরিদ্র মহিলারা টিভি, মোবাইল, গরু ছাগল কিনছে। কিন্তু সুদ দিতে গিয়ে সব বিক্রি করে শেষে জেলের ভয়ে ফেরার হচ্ছি। ওদিকে আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স গ্র“প তৈরী করছে নিয়ত তাদের প্রোগ্রাম। জেমসবন্ডের জন্য। আওয়ামীলীগ আর বি এন পির কাজিয়ায় তার অস্থির কোন সময় কি ঘঠে এদেশে আল্লাহ মালুম। কিভাবে এদেশে শান্তি আনা যায়। ডঃ ইউনূস উন্মাদ হয়ে উঠেছেন। তিনি খানিক কাদছেন খানিক হাসছেন। বার্নাড শর দোহাই দিয়ে বলতে হয় যে পুরুস্কার হজম করতে জানেনা সে পুরুস্কারের যোগ্য নয়। ইতিমধ্যে ডঃ ইউনূসের মুখে আমেরিকার ভাষা। তিনি কিসে নোবেল পেয়েছেন আর কি বলে বেড়াচ্ছেন সে ব্যপারে অবগত নন। তিনি বন্দর খুলে দিতে বলছেন। যেন সেখানে মার্কিন ঘাটি হতে পারে। এতে কি শান্তি তিনি কামনা করছেন তিনিই জানেন। আমরা পার। দু দিনে সম্ভব। আমি নিজেই রাজনৈতিক পার্টি গঠন করব। হা বল। সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে ইত্যাদি। সম্ভবত আমরা আমাদের ভাবী ত্রাতাকে পেয়ে গেছি। সাবাশ জেমস। চারিদিকে জেমসের জয়জয়কার। তিনি আমাদের নাম দিকে দিকে উজ্জল করেছেন। তাও কম কি। দূনীর্তি বারবার প্রথম হবার চেয়ে মাঝে মাঝে শান্তিতে নোবেল পাওয়া মন্দ নয়। রাস্তায় বেরুলেই ুদ্ররিনের গ্রাহক নারীদের মিছিল চোখে পড়ে। এত গ্রামীণ ব্যংকেরও জয়। গ্রামীণ ব্যংক আর ডঃ ইউনূসের কেউ কি খেয়াল করেছেন? মিছিলে অংশগ্রহণকারি এই সব ছেড়া বোর্কা পড়া হতদরিদ্র মানুষদের পায়ের চপ্পল কোথায়? নাকি বিজয় মিছিলে চপ্পল আনতে নাই। একেই কি বলে কোকাকোলার বদলে কাপড় খোলা?

Tuesday, January 16, 2007

সাবাস মনমোহন

মনমোহন সিংয়ের অর্থনিতির জাদুর কথা শুনেছি, রাজনৈতিক জাদুদেখছি এবার । কিছুদিন আগে টিপাইমুখি বাধের উদ্ভোদনে আসতে না পেরে চোরের মত কাজটি সম্পর্ন করে ফেরত গিয়েছিলেন। কিন্তু তার রেশ এভাবে আবার টেনে আনবেন তা ভাবতেও পারিনি। এতগুলো লোক মেরে দোষ চাপিয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপর। বাংলাদেশে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পর টিপাইমুখ বাধের জন্য আসামবাসিই ছিলো আপনার পথের শেষ কাটা, তাও উপড়ে দিলেন সমস্যা ছাড়াই। তবে সাধুবাদ মি. সিং মাত্র শদেড়েক নিরিহ ইন্ডিয়ানের জিবন নিয়েই আপনার খেলার ভালো ওপেনিং করেছেন। বেশ মনমোহন বেশ আপনি ইন্ডিয়ার ছবি বেশ বাস্তবতার সাথে মিল রেখেই প্রতিফলাচ্ছেন। নতুন নতুন অস্র কিনে পেশি শক্তি দেখাতে পারবেন তবে আপনার মাড়োয়ারি নামটা মুছতে পারবেন বলে মনে হয়না।

Wednesday, January 10, 2007

প্যারিস থেকে

আমি থাকি প্যারিসের মুল শহরে সবচেয়ে গরিব এলাকায়। চারটি বহুতল আবাসভবনের মিলনস্থলে আমাদের দোকামরার বাসাটিকে বাংলাদেশের ছাপরা ঘরের সাথে তুলনা করা যায়। অর্ধেক ঢালাই করা অর্ধেক এসবেস্টার দিয়ে কোনমতে দাড় করানো ঘরটিতে বছরের দুই তৃতিয়াংশ সময়েই সুর্যের আলোই পৌছায়না। মাঝে মাঝে কখন দিন কখন রাত ঠাহর করতে পারিনা। গত ২০০৪ এর গৃষ্মে যখন প্যারিসে ৭হাজারের ও বেশি মানুষ গরমের চোটে মারা যায় আমরা তখনও গায়ে কম্বল মুড়ে সকাল ১১টা ১২ পর্যন্ত ঘুমাই। ভাবতেই অবাক লাগে পৃথিবীর সর্বোচ্চমানের চিকতসা বিনাপয়সায় ভোগ করা লোকগুলো ৩০ ডিগ্র তাপমাত্রায় কারনে মৃত্যবরন করে আর আমরা শীতে বৃষ্টিতে কষ্ট করা মানুষেরা সহজে মরিনা। হয়তো এটা আল্লাহর অসীম দয়া, হয়তোবা আমাদের আমাদের আগজন্মের পাপ শোধরানোর জন্য পৃথীবির বুকে কষ্টের কঠিন বোঝা নিয়ে আর ও কয়েক দিন বিচরন করা। কিন্তু কার কি আসে যায় আমাদের মত আগাছারা পৃথিবির বুকে টিকে থাকুক আর নিশ্চহ্ন হয়ে যাক।

Monday, December 25, 2006

রক্তের স্বাধিনতা

উনি সম্পর্কে আমার নানা হন, আমার নানুর বড় ভাই। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ঢাকায় বড়সড়পোষ্টে চাকরি করতেন। প্রচন্ড স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ আসন্ন দেখে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। নিজে মুক্তিযুদ্ধে সামিল হননি তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্নক সহায্য করেছিলেন। আর তাই মুক্তি যুদ্ধের মাঝা মাঝি সময়ে যখন মুক্তিযোদ্ধাদের আঘাতে পাক বাহিনির প্রচুর রক্ত ঝরছিলো, কিছু রাজাকার আর পাকুর দল উনাকে রাতেরবেলায় বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। সবাই আশংকা করছিলো অন্য সবার মত উনাকেও মেরে ফেলা হবে। তাই সকালবেলা কিছু আত্নিয় স্বজন উনার মৃতদেহের খোজে পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পের আশে পাশে খোজ নিতে যায়। খোজা খুজির এক এক পর্যায়ে ক্যাম্পের অনুতিদুরে তাকে বেহুশ অবস্খায় পাওয়া যায়, উনার গায়ের রং মরা মানুষের মত সাদা হয়ে গেছে। সবাই চরম বিষ্ময় আর আনন্দে তাড়াতাড়ি উনাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সবার বিষ্ময়ের ইতি ঘটে যখন উনার জ্ঞ্যান ফিরে আসে। উনি কথা বলতে পারছিলেননা, ইশারা ইঙ্গিতে অস্পষ্টভাবে যা বললেন তাতে সবার গা শিউরে উঠলো, বর্বর পাকিস্তানিরা সিরিনজ দিয়ে উনার সমস্ত রক্ত বের করে নিয়ে গেছে। ওনার মরন প্রায় আসন্ন। সবার সেবাযত্নে সেবারের মত বেচে গেলেও লম্বা সুঠাম সাস্খের লোকটা আর কোনদিনও তার আগের অবস্খায় ফিরে যেতে পারেননি। যতদিন বেচেছিলেন ঢাকায় চিকিতসাধিন ছিলেন। নিজের জায়গা সম্পত্তি সব বিক্রি করে ফতুর হয়ে গেছেন। উনার মেধাবি ছেলেমেয়েরা বাবার চিকতসাখরচ চালাবার জন্য পড়ালেখা বাদ দিয়ে চাকরি ধরতে হয়েছে।উনি মারা গেছেন প্রায় ৫/৬ বছর হয়। আজও আমার নানু উনার কথা মনে করে ডুকরে কাদেন।তবে আমাদের একটাই সান্তনা, যে সব রাজাকার এসব কাজের সাথে জড়িত ছিলো সবার বিচার হয়েছে। এলাকার সকল মুক্তিযোদ্ধারা নিজ হাতে তাদের বিচার করেছে।

Friday, December 15, 2006

টিপাইমুখ বাধ আরেক ফারাক্কা




http://amardesh.u46.futurecrafts.
com/sub_section.php?
NewsID=75928&NewsType=bistarito

আমারদেশ পত্রিকায় টিপাইমুখি বাধ নির্মান সম্পর্কে দেয়া রিপোর্ট।

অঙ্গের ইনসুরেন্স করুন


বিগত দশক থেকে আমাদের দেশে রোগ বালাই হলে ইন্ডিয়া ঘুরে আসা একটা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। একটু অসুস্থ হলেই ব্যাস আর কোন কথা নেই এক দৌড়ে মাদ্রাজ অথবা ব্যাঙ্গালোর। বাংলাদেশি রোগিদের স্রোতে কলকাতায়ও বেশ কয়েক ডজন অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, সাথে কয়েকটি হাই ফাই হোটেলও। এক কথায় তাদের পোয়াবারো চলছে। কিন্তু ইন্ডিয়া গিয়ে উন্নত চিকিৎসার সাথে কি রিস্ক নিচ্ছেন অনেক সচেতন বাঙ্গালিরাও জানেনা।

ভারতে চিকিৎসার সবচেয়ে ভালো সুবিধা হচ্ছে এখানে সব পাওয়া যায়। বিশ্বের নামি দামি যত ওষুধ হতে শুরু করে মানুষের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবই এখানে সস্তায় পাওয়া যায়। প্রশ্ন হচ্ছে এসব আসে কোথায় থেকে? ওষুধের কথা বলা যায় ইন্ডিয়াতে সব ওষুধের অরিজিনালের সাথে সস্তায় নকল ওষুধ পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তো নকল পাওয়া যায়না, আর বানানোও যায় না। এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ফরাসি এক সপ্তাহিক ম্যাগাজিন নেমেছিল তদন্তে। তাদের মতে, ইন্ডিয়ার হাসপাতালগুলোতে ৬০% অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যোগান আসে অবৈধ উপায়ে। অনেক সময় ছোট বাচ্চাদের কিডন্যাপ করে হাসপাতালে তার মুল্যবান অঙ্গগুলোকে রেখে বাকিটুকু গুম করে ফেলা হয়। বাচ্চা শিশুগুলোর যোগান শুধু ইন্ডিয়া থেকে আসেনা, আশে পাশের সব দেশ (বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার, শ্রিলঙ্কা) থেকেও কিছু যোগান আসে। ভারত অনেকদিন সন্দেহের থেকে বাইরে থাকে কারন আরব দেশগুলোতে উটের জোকি হিসেবে শিশু ব্যাবহার পৃথিবির সব দেশ জানতো। যেমন বাংলাদেশে কারও বাচ্চা হারিয়ে গেলে সবাই মনে করতো বাচ্চাটি কোন এক আরব দেশে হয়তোবা উটের জোকিগিরি করছে। যদিও বাস্তবতা ছিলো সম্পুর্ন ভিন্ন।
অবৈধ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আরেক প্রধান কারও উৎস দেহ থেকে চুরি করা অরগান। উপরে ছবিতে যে মহিলাটিকে দেখছেন তার একটি কিডনি চুরি হয়ে গেছে। চাকরির খোজে আসা মহিলার মালিক রক্ত পরীক্ষর নামে তাকে হাসপাতালে যেতে বাধ্য করে, তারপর বেহুশ করে তার একটি কিডনি অপারেশন করে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কার্য সম্পাদন হয়ে যাওয়ার পর তাকে ৫০০০ রুপি ধরিয়ে দেয়া হয় যেন সে চুপ থাকে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ১৯৯৬ সালে ১০০০ হাজারেরও বেশি কাজের খোজে শহরে আসা গ্রাম্য শ্রমিক একই ভাবে কোননা কোন একটা অঙ্গচুরির স্বিকার হয়েছে।(চলবে)

Tuesday, December 12, 2006

এদের কি দোষ

বুশ মহাশয় যখন গনতন্ত্র আর মানবাধিকার প্রতিস্ঠায় যুদ্ধে লিপ্ত ঠিক তখনই পৃথিবীর এক খুদ্র কোনে ঘটে চলেছে মানবাধীকারের চরম শ্লীতলহানি। ঘটনার হোতা আমেরিকারই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ঘনিস্ঠ বন্ধু ভারত। মুসলমান নিপিডনে সিদ্ধহস্ত ভারত এখন বাংলাভাষীদের টার্গেটে এনেছে। বেশকিছু দিন যাবত ভারতঈয় কতৃপক্ষ বাংলাভাষাভাষি মুসলমানদের বাহুবলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে চলেছে। ভারতীয় কতৃপক্ষ তাদের বড় বড় শহরের বস্তিগুলোতে অভিযান চালিয়ে এসব লোকদের গ্রেপতার করে বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো করে আর সুযোগ বুঝে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। এসব লোকদের একমাত্র দোষ তারা বাংলাভাষাভাষি আর মুসলমান। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গনতন্ত্রের দেশ ইন্ড়িয়ার অগনতান্ত্রিক কার্যকলাপে কোন দেশ কংবা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মুখে কোন টু শব্দ নেই। আর বাংলাদেশ সরকার তত্খনাত তাদেরকে পুশআঊট করার চিন্তায় ব্যাস্ত থাকে। সর্বসান্ত সর্বহারা এসবলাকগুলোর কথা একবিন্দুও ভাবার কারও সময় নেই। অ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাণ নামক মস্তমস্তিস্বধারী সংগঠন দায়সারাভাবে হাণকা বিবৃতি দিয়েই ক্ষ্যান্ত থাকে।
এটা সত্যি যে বাংলাদেশের মত গরিব দেশের পক্ষে এসব লোকদের পুনর্বাসিত করা অথবা ইন্ড়য়াকে এ অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখা কোনটারই ক্ষমতা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের নিরবিচ্ছিন্ন মৌখিক প্রতিবাদ আমরা আশাকরি।

নিচের ছবিটি ভারতী্য কতৃপক্ষের হাতে বেআইনি ভাবে পুশইনকৃত হয়ে বেনোপল বন্দরে বিহবল হয়ে দাড়িয়ে থাকা কিছু লোকের।

Sunday, December 10, 2006

টিপাইমুখ বাধ ২য় ফারাক্কা :



বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীই আমাদের অর্থনিতির প্রান। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সকলদিক থেকে বাংলাদেশের বেচে থাকা নদীর উপর নির্ভর করে। আর সেই নদী শাসনের নাম করে বার বার ভারত বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিতে বার বার সকল সমস্যা ভারতের কাছে তুলে ধরা হলে ও তারা কোনসময় কোন কথাই কানে তুলেনি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবেশি ভারতের সাথে বিভিন্ন ব্যাপারে মতবিরোধ দীর্ঘদিন থেকে। ভারতের একতরফা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু সিদ্ধান্তই এই তিক্ততার মুল কারন। বৃহত্তম এই প্রতিবেশির স্বার্থপরতায় প্রতিনিয়ত নিগৃহিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ফারাক্কার বাধ তারই একটি সমসাময়িক উদাহরন। গত হাসিনা সরকারের আমলে পানি চুক্তি হলেও পানির ন্যায্য হিস্যা কোনদিন বাংলাদেশ পায়নি। ফারাক্বার অপরাপর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা সবাই নিশ্চই অবগত আছেন। ফারাক্কার ঘা সুকোতে না সুকোতে এবার ভারত আরেক নতুন ফারক্কার সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।
ভারত বিদ্যুত উতপাদনের জন্য মনিপুর রাজ্যের টুপাই ও বরাক নামক নদীর সঙ্গমস্থলে একটি বাধ নির্মান করতে যাচ্ছে। এই বাধ নির্মান হলে উপরোল্লিখিত দুটি নদি ছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা ও কুসিয়ারার পানি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। যার প্রভাবে বাংলাদেশে সিলেট ও অন্যান্য ৮টি জেলায় মরুকরন পক্রিয়া শুরু হবে। আর্সেনিকে আক্রান্ত বাংলাদেশের আর্সেনিক ভয়াভহ আকারে ধারন করা ছাড়াও পারিবেশিক ভারসাম্য নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বাধে শুধু বাংলাদেশ নয় ভারতের মনিপুর ও কয়েকটি রাজ্যও দারুন ভাবে আক্রান্ত হবে, ভুমিহিন হবে হাজার হাজার মানুষ, ধ্বংশ হবে প্রাকৃতিক জিববৈচিত্র।
টিপাই বাধের পরিকল্পনা ৪০বছরের পুরোনো। গত ৪০বছরে ভারত বেশকয়েকবার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু বাংলাদেশে গনআন্দোলনের কারনে তা হয়ে উঠেনি। এবার ভারত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে, ইতিমধ্যে তারা ( গত ১ই ফেব্রুয়ারি) দরপত্রের আহবান করেছে এবং ২৫শে নভেম্বর মনমোহন সিং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যাচ্ছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুবিধা ১৬ আনা কাজে লাগানোর জন্য মনমোহন এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মৌখিক প্রতিবাদ করা হলেও ভারত তা কানে তুলেনি। বরংচ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিভাবে কোন কিছু না জানিয়েই বাধের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। বহুকাল আগ থেকে বাংলাদেশের বিশেষঅঞ্জ এবং বিভিন্ন সংঘঠন সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার দাবি জানিয়ে আসলেও কোন এক অক্ষরের ঘুর্নিচক্রের প্রভাবে সরকার থেকে এপর্যন্ত কোন কার্যকারি ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি।
তাই বর্তমান নির্বাচিত সরকারগুলোর মুখাপেক্ষি না থেকে জনগনকে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেরকম হয়েছিলো ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালে, সবাইকে সচেতন করতে হবে, যার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে, আসুন বাংলাদেশের সার্থ এবং আসাম মিনপুরের হাজার হাজার মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে সচেতন হই।

সচেতনতা এবং দাবি আদায়ের দৃড় সংকল্পই এই অনাচারের অবসান ঘটাতে পারে। আসুন বাংলাদেশকে বাচাতে ঐক্যবদ্ধ হই।